শখের সৃজন
ভীড়ের মধ্যে একা থাকার অন্য নামও বটে।বলতে পারো স্বেচ্ছানির্বাসন।এই যে আছি কিন্তু নেই এর ভেতর এক অদ্ভুত পাওয়া খেলে ব্যাড়ায়।অনেকটা দিঘির জলে মাছেদের মত।আসলে বাস্তবে যা সম্ভব নয় এই সমাজ তার স্বীকৃতি দ্যায়। নাম পরিচয় ছাড়া বাস্তব জীবন নির্বহন অসম্ভব।কিন্তু ইচ্ছে হয় খুব অথচ উপায় নেই।এই পরিচয় এই নাম পার্সিয়ালিটি করে আমাদের অজান্তেই।ধরা যাক আমার নাম দ্রোন মানে সঙ্গে সঙ্গে আমার সফটওয়্যার জানান দেবে ও হিন্দু ছেলে।একই ভাবে আফরিন বা টমাস দ্য মুরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই প্রসেসটা বাই ডিফল্ট চলে।অথচ অদ্ভুত লাগে এই জিনিসটা আমি কিন্তু নিয়ে জন্মাইনি,মানে সহজাত নয় মোটেও।সমাজ আমার অজান্তে আমাকে শিখিয়ে নিয়েছে।
আরও অদ্ভুত দিক এই নাম বা পরিচয়ের রয়েছে।কোনকিছু কাজ যার মধ্যে স্বকীয়তা আছে সেই কাজগুলিও সঠিক কাজের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হয় না।হয় তার আগের কাজের রেসপেক্টে।বা আরও বলা ভালো তোমার নাম ও পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে।এটা আজ নয় সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসছে।যখন থেকে মানুষ সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছে তখন থেকেই এই মানসিকতা চলে আসছে।তবে এটা খারাপ না ভালো তাতে যাচ্ছি না।এতদিন ধরে যে নিয়ম আমাদের স্নায়ুতে শিরায় হয়ে দৈনন্দিন অভ্যেসে ঢুকে আছে তার মধ্যে নিশ্চয়ই ভালো তো কিছু আছে।কিন্তু এর বাইরেও কিছু মানুষ তো ভাবে যে আমার প্রকৃত মূল্যায়ণ হোক।আমার কাজের সৃষ্টির।যা নামের নিরীখে নয় সেই কাজ বা সৃষ্টির নিরীখে।ধরা যাক তুমি একটি লেখা লিখলে এবং সেটা কারুর গোচরগতই হল না।কিন্তু তার চেয়ে অনেক নিম্নমানের লেখা অমুক কবির বা তমুক সাহিত্যিকের হলে সেটার বিচার অন্যরকম।এবং অমুকবাবু লিখেছেন বলে তা হয়তো অত সহজে বাতিল তালিকাতেও ফ্যালা যায় না।কিন্তু তোমারটা যায়।এটা ক্যানো??
না এই প্রবৃত্তি আজকের নয় প্রাচীন ভারতে ভুরি ভুরি ছিল।আর ছিল বলেই রামায়ণ মহাভারতের প্রক্ষিপ্ত অংশের সৃষ্টি।কিছু কবি যারা নামের ভারে কল্কে না পেয়ে এই সব মহাকাব্যের মধ্য সুপরিকল্পিত ভাবে প্রবেশ করিয়ে এক অদ্ভুত প্রসন্নতার ঘুম ঘুমিয়েছিলেন এই ভেবে যে- যাক বাবা যে সমাজ আমায় উপেক্ষা করেছিল সেই সমাজকে সামান্য প্যাকেট বদল করে আমার সৃষ্টি দিব্বি গিলিয়ে দিতে পেরেছি।হা হা হা হা হা হা..
এখন তুমি প্রশ্ন করতেও পার এতে তার কি লাভ হল?? সেটা অনুভবের।বাঙ্ময়হীন অনুতৃপ্তি।নাম যশ খ্যাতি না হোক তার সৃষ্টির প্রতিষ্ঠা তার কাছে অনেক বড় অনেক মহার্ঘের।একে অন্যকিছু নয় বরং চরম ঔদার্যের চোখেই আমি দেখি।আর তারাই আমার হিরো।তারা নিভৃতে চর্যার চর্চা করে গ্যাছেন কোনওকিছুর বিনিময়ে নয়।বরং সৃষ্টির আনন্দে ও সেসব প্রতিষ্ঠার আনন্দে।
আসলে সাধারন দৃষ্টিতে সমাজে মূলত দুধরনের শিল্প রয়েছে। কিন্তু আজকাল সমকাজে সমবেতনের মত একই পঙক্তিতে তাদের এনেফেলেছি।সেও আমাদের অজান্তে।আসলে সমাজে কোনওকিছু এমনি এমনি প্রচলিত হয়ে যায় না তার ডিম্যান্ড আগে তৈরি হয় ও তারপর তার প্রোডাকসন হয়।আমরাও কোথাও না কোথাও এই 'মুড়ি মিছরি একদর' করতে চেয়েছিলাম তাই হয়েওছে।
একটা অন দ্য স্টেজ আর অন্যটা ব্যাক দ্য স্টেজ।এই দুধরনের শিল্পের বা সৃষ্টির মধ্যে দ্বৈতশাসনের ভূমিকা থাকে।একটার ভেতর চরম আলোকিত অধ্যায় তো আরেকটার মধ্যে চরম বঞ্চনার।এই বঞ্চনার থেকেই এই অস্থিরতা।যদিও এটুকু মেনে নিয়েই কিন্তু সৃষ্টিশীলরা তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে আসেন, থাকেন, বেড়েও ওঠেন।তাদের সাফল্য নৈপুন্য জানে মুষ্টিমেয় কিছু মেধাধারী মানুষ।সাধারনদের থেকে তারা অনেক বাইরে।এর মধ্যে আরও একটি অংশ রয়েছে যারা
আউট অফ স্টেজ
যাদের চর্চা আরও নিভৃতের আরও গভীরের।মানে কালদ্রষ্টাদের কথা বলছি।এই পর্যায় পৌঁছানোর জন্য যে সাধনার প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি আত্মসংবরণের।অনেকটা জিভের মত,নইলে বয়ে যেতে হয়।ধন্বন্তরির কথায় একজন বৈদ্য ততদিন ভালো বৈদ্য যতদিন তিনি সংযত চিকিৎসা চর্চায় আছেন।।জানিনা, আমি চিকিৎসক নই তাই এই উদাহরণ টানা ঠিক হল কিনা।।
এ খুব সামান্য নিজস্ব অনুভূতি থেকে বলছি। একটা অসুখ বাড়ছে।জানি না সেটা উপকারি না কি অপকারি।তবে আমার ব্যক্তিগত ভাবে যথেষ্ট আপত্তির।যখন দেখি এই আউট অফ স্টেজের সৃষ্টিকারগন আলোকিত হওয়ার সুপ্তবাসনা ভেতরে ভেতরে প্রতিপালন করতে শুরু করেন সেখানেই প্রমাদের গন্ধ লাগে নাকে।তার কিছু কিছু নমুনা তোমাদের প্রায় সকলের অভিজ্ঞতায় হয়তো রয়েছে।
তবে যাই হোক য্যামোনই হোক এমত চর্চা বা বিকেন্দ্রিকরণ হয়তো আমরা চাইনি।যদিও এসবের ভালো মন্দ সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

Comments
Post a Comment